বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৩ বছর পূর্তিতে মাদরাসার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই আয়োজন করে। ওই আয়োজনে বগুড়ার জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, বগুড়ায় নানান অপরাধে জেলখানায় বন্দী থাকে প্রায় ১৮শ থেকে১৯শ মানুষ। আমাকে প্রায়ই সেখানে যেতে হয়। কিন্তু এই এতগুলো অপরাধীদের মধ্যে আমি মাদরাসা থেকে পড়ে আসা শিক্ষার্থী তেমন একটা দেখি। হাতেগোণা দুয়েকজন থাকতে পারে, তারা ভ্রান্ত পথের পথিক। এই গুটিয়কয়েকের জন্যে একটি শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সকালে শহরের গোয়ালগাড়ী এলাকায় মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে পুনর্মিলনীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে প্রাক্তন ও নবীন মিলিয়ে এই মাদরাসার হাজার খানেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি মাদরাসা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
উদ্বোধনী আলোচনায় অ্যালামনাইয়ের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এফএমএএইচ তাকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী, অ্যালামনাইয়ের সদস্য সচিব আবু বকর ছিদ্দিক, বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ আমিনুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহমেদ টিপু। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মাত্র তিনটি সরকারি মাদরাসার মধ্যে এটি একটি। তাই দেশ ও রাষ্ট্রের সেবায় অসংখ্য কৃতি মানুষকে সারা দেশে ছড়িয়ে রেখেছে এই মহীরুহ প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বলেন, শুক্রবারের খবরের কাগজেই তথ্য প্রকাশ হয়েছে, সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার দুই জঙ্গির কেউই মাদরাসার ছিলো না। এর আগেও দেখা গেছে মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের সাথে যেসব তরুণ যুক্ত হয়েছে তাদের বেশিরভাগেরই মাদরাসা ব্যকগ্রাউন্ড ছিলো না। কারণ, বিশেষ করে আলিয়া মাদরাসাগুলোসহ বেশিরভাগ মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেখা তরুণদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা একইসাথে দেয়া হয়। যে কারণে, আমরা আরো নানাবিধ ক্রাইমের ক্ষেত্রে মাদরাসার ছাত্র ছিলো কখনো, এমন রেকর্ড কম পাই।
অনুষ্ঠানে অ্যালামনইয়ের পক্ষ থেকে প্রাক্তন ১০ কৃতিশিক্ষার্থীকে সম্মাননা জানানো হয়। এবছর এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে প্রাক্তনকৃতি আবু নছর মোহাম্মদ নজীবুল্লাহ (মরণোত্তর), মোহাম্মদ আলী (মরণোত্তর), ড. একেএম ইয়াকুব আলী, উপাধ্যক্ষ আবদুস সামাদ, প্রফেসর একেএম শামসুল আলম, প্রফেসর ড. শাহজাহান, অধ্যক্ষ মাওলানা শামছুদ্দিন, অধ্যক্ষ মুজাম্মেল হুসাইন, উপাধ্যক্ষ আবুল হোসাইন এবং অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আলীকে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুনর্মিলনী আয়োজনের পরের অংশে ১৯৫৬ সালের ব্যাচ থেকে শুরু করে সাম্প্রতির সময়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন। বহু বছর পর এমন আয়োজন পুরনো মানুষ আর সময়কে একসাথে পেয়ে যাবার দোলা দিয়ে যায় অংশগ্রহণকারী নবীন-প্রবীনদের এই সমাবেশে।
Subscribe by Email
Follow Updates Articles from This Blog via Email
No Comments